আপনার কি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে?

মিম সাওদা

সার্টিফাইড ফিটনেস কোচ

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে নিয়মিত সঠিকভাবে ব্যায়াম দারুণ কাজ করে। কারণ ব্যায়াম পেশীতে গ্লুকোজ ঢুকতে সাহায্য করে, ইনসুলিনের কাজ সহজ করে এবং ফ্যাট কমায়। 

কার্ডিও/এরোবিক এক্সারসাইজ 

এগুলো হার্ট রেট বাড়ায় এবং শরীরকে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে শেখায়।

  • দ্রুত হাঁটা
  • সাইক্লিং
  • জগিং/দৌড়
  • স্টেশনারি বাইক
  • সাঁতার

 

➡️ সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩ দিন, ৩০–45 মিনিট

➡️ একটানা না পারলে ১০–১৫ মিনিট করে ভাগ করে করতে পারেন।

 

স্ট্রেন্থ / রেসিস্ট্যান্স ট্রেনিং (সবচেয়ে জরুরি)

পেশী যত বাড়ে, শরীর তত বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে, ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে।

  • স্কোয়াট, লাঞ্জ
  • গ্লুট ব্রিজ
  • পুশ-আপ (ওয়াল/টেবিল পুশ-আপও চলবে)
  • ডাম্বেল/রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড এক্সারসাইজ
  • রো, শোল্ডার প্রেস, বাইসেপ কার্ল

ফ্রিকোয়েন্সি:

➡️ সপ্তাহে ২–3 দিন, ৪০-৪৫ মিনিট

➡️ একই পেশী আবার করতে হলে ১ দিন বিরতি রাখুন।

রেপ/সেট:

শুরুতে 10–12 রেপ × 2 সেট, ধীরে ধীরে বাড়ান। 

 

HIIT (ছোট সময়, বেশি ফল) – কেবল যদি বডি সাপোর্ট করে

 

HIIT মানে ছোট ছোট স্পিড সেট + বিশ্রাম। ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করবে।

উদাহরণ:

৩০ সেকেন্ড দ্রুত হাঁটা/দৌড় – ১ মিনিট ধীরে হাঁটা,  এভাবে ৬–৮ রাউন্ড।

➡️ সপ্তাহে ১–২ দিন যথেষ্ট।

➡️ যদি হার্ট/জয়েন্ট সমস্যা থাকে বা একদম নতুন হন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শুরু করবেন না।

 

স্ট্রেচিং/মাইন্ডফুল মুভমেন্ট/মোবিলিটি

  • স্ট্রেস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়। 
  • ডিপ ব্রিদিং,
  • স্ট্রেচিং,
  • মোবিলিটি উপকারী 

➡️  10–15 মিনিট করলে কর্টিসল কমে, ঘুমও ভালো হয়।

সাপ্তাহিক যেভাবে সাজাতে পারেন:

শনি: দ্রুত হাঁটা 35 মিনিট

রবি: স্ট্রেন্থ ট্রেনিং (ফুল বডি)

সোম: রেস্ট 

মঙ্গল: দ্রুত হাঁটা + স্ট্রেচিং

বুধ: স্ট্রেন্থ ট্রেনিং

বৃহঃ: HIIT বা দ্রুত হাঁটা

শুক্র: হালকা হাঁটা/রেস্ট

✔️ গুরুত্বপূর্ণ টিপস

➤খাবারের ৩০–৬০ মিনিট পরে হাঁটা ইনসুলিন কন্ট্রোলের জন্য ভালো।

➤টানা বসে থাকবেন না।  প্রতি ৩০–৪৫ মিনিটে ২–৩ মিনিট দাঁড়িয়ে নড়াচড়া করুন।

➤ধীরে শুরু করুন, কিন্তু নিয়মিত থাকুন।

২–৩ মাসে পার্থক্য বোঝা যায়।

➤পানি খান, ঘুম ঠিক রাখুন, ওজন বেশি হলে ধীরে কমান।

➤ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, ও কম প্রসেসড খাবার রাখুন,না হলে ব্যায়ামের প্রভাব কমে যায়।

 

 সতর্কতা অবলম্বন :

বুক ব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাস নিতে কষ্ট

খুব বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়া (চিনি হঠাৎ কমে যাওয়া)

হাঁটু/পিঠে তীব্র ব্যথা

এগুলো হলে থামুন,ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। ডায়াবেটিসের ওষুধ/ইনসুলিন থাকলে ব্যায়ামের সময় ও ডোজ নিয়ে আগে পরামর্শ নেয়া ভালো।