মহিলাদেরও অবশ্যই নিয়মিত স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং করা উচিত।

মিম সাওদা

সার্টিফাইড ফিটনেস কোচ

স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং মানে শুধু ভারী ওয়েট তোলা নয়। নিজের শরীরের ওজন, লাইট ডাম্বেল, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড বা মেশিন ব্যবহার করেও এটি করা যায়। মহিলাদের শরীর, হরমোন ও বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং খুবই প্রয়োজনীয়।

✅ ওজন কমাতে ও মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে

স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং মাংসপেশি তৈরি করে। মাংসপেশি যত বেশি হবে, শরীর তত বেশি ক্যালরি বার্ন করবে।even বিশ্রাম অবস্থায়। শুধু কার্ডিও করলে ওজন কমলেও শরীর লুজ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং শরীরকে টোন লুক রাখে।

✅ পেট ও হরমোনাল ফ্যাট কমাতে কার্যকর।

মহিলাদের পেট, হিপ ও থাই অঞ্চলে ফ্যাট জমা হরমোনজনিত। স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায় ও কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা PCOS, প্রি-ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড সমস্যায় বিশেষ উপকারী।

✅ হাড় শক্ত করে, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মহিলাদের হাড় ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বেশি। নিয়মিত স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়, ভবিষ্যতে ফ্র্যাকচার ও হাঁটাচলায় সমস্যার ঝুঁকি কমায়।

✅ হাঁটু, কোমর ও পিঠের ব্যথা কমায়

স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং জয়েন্টের চারপাশের মাংসপেশিকে শক্ত করে। ফলে হাঁটু, কোমর ও ব্যাক পেইন ধীরে ধীরে কমে এবং চলাফেরা সহজ হয়।

✅ বয়সজনিত দুর্বলতা ও মাসেল লস রোধ করে

৩০ বছরের পর থেকেই মাসেল কমতে শুরু করে। স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং এই মাসেল লস ধীর করে, শরীরকে দীর্ঘদিন শক্ত ও কর্মক্ষম রাখে।

✅ শরীর টোনড ও শেপড করে, bulky করে না

অনেকের ভয়, স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং করলে শরীর ভারী হয়ে যাবে। বাস্তবে মহিলাদের টেস্টোস্টেরন কম হওয়ায় bulky হওয়া কঠিন। বরং শরীর হয় টোনড, ফার্ম ও সুন্দর শেপে।

✅ মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে

স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং স্ট্রেস কমায়, ঘুম ভালো করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক ক্লান্তি কমাতে এটি খুব কার্যকর।

✅ দৈনন্দিন কাজ সহজ করে

বাজার করা, ঘরের কাজ, সন্তান কোলে নেওয়া, সিঁড়ি ভাঙা-সবকিছুতে শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়ে। সারাদিন কাজ করেও কম ক্লান্ত লাগে।

  • সপ্তাহে ২-৩ দিন, ৪০-৬০ মিনিট
  • শুরুর দিকে লাইট ওয়েট বা বডিওয়েট
  • ধীরে ধীরে ওয়েট বাড়ানো

এক্সারসাইজ করুন, সুস্থ ও ফিট থাকুন।